সমস্ত কাকু জেঠু দাদু সবার উদ্দেশ্যেই বলছি , শুধু বয়সে বড়ো বলেই তোমাদের সম্মান করবো এই ধারণা যদি তোমাদের মনে থেকে থাকে , আমার মহানগরী এই কলকাতা তোমাদের থেকেও প্রবীন এবং তোমাদের logic অনুযায়ী আমি নাহয় তার সম্মান তাই বজায় রাখলাম।

           আজকে আমার কথাটা একটা সত্যি ঘটনা দিয়ে শুরু করি :
           আমার তখন সাত কিংবা আট বছর বয়স, মা বাবার সাথে ঠাকুর দেখতে যাচ্ছিলাম , বাগবাজারে। (হ্যাঁ , ছোটো ছিলাম , কিন্তু সবটা স্পষ্ট মনে আছে কারণ ঘটনাটা সেরকম ) ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম, মা পাশেই ছিল, হঠাৎ খুব জোরে কেউ বুকে চিমটি কেটেছিল, ভয় পেয়ে চিৎকার করেছিলাম, কান্নাকাটিও , কিন্তু কি ঘটেছিলো সেটা বলতে পারিনি কাউকে , মা আর বাপি অনেক বার জিজ্ঞেস করেছিল, কিন্তু পারিনি বলতে, পিছনে তাকিয়ে একবার শুধু দেখেছিলাম একটা দাদু ছিল বড়ো বড়ো চোখে তাকিয়ে।
       হ্যাঁ , সেদিন আমি চুপ করেছিলাম।
       বাড়ির পাশে এক কাকু থাকতেন, বাপি অফিসে চলে যাবার পর  মাঝে মাঝে মা বাজারে যেতো , মা চলে গেলে ফোন করতেন আর বলতেন দরজাটা খুলে রাখো বাবু , আমি আসছি।  প্রথম প্রথম কদিন খুলেও দিয়েছিলাম আর তারপর বন্ধ দরজার আড়ালে কি হতো সেটা মনে হয় আর আলাদা করে না বললেও চলবে।  বেশ কিছুদিন সব সহ্য করার পরে একদিন কাকুর হাতে খুব জোর কামড়ে দিয়েছিলাম এবং তারপর কখনো কাকু আমার বাড়ি আসেননি , কাকু আজ বাড়ির পাশেই থাকেন , কিন্তু বলতে কোনো দ্বিধা নেই, কাকু আমি আপনাকে সম্মান করিনা।
     ছোটবেলা থেকে আমার মা বাপি আমায় কোনোদিন বলেনি যে শুধু মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করবি, ছেলেদের সাথে না।  বাড়ির নিচে দুই দাদা থাকতো, হ্যাঁ হয়তো ভাড়াটে ছিল , কিন্তু আমি তাদের সাথে সারাদিন থাকতাম, ওদের মাকে মামী বলতাম আর যথারীতি ওদের বাবাকে মামা বলতাম। ওরা কোনোদিন বুঝতেই দেয়নি যে আমি ওদের মেয়ে বা বোন না। বরং একবার অন্য একটা দাদা যখন আমায় মলেস্ট করতে চেয়েছিলো, ওই দুই দাদা আমায় জড়িয়ে ধরেছিলো, বুকে আগলে রেখেছিলো , আর দোষী শাস্তিও পেয়েছিলো কিন্তু।
  স্কুল বা কলেজ থেকে অনেকবার outing  এ গেছি , আর বলাই বাহুল্য যে সাথে প্রায় ১৫ জন ছেলে বন্ধু ছিল, আর বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে ওরা ছিল বলেই “SAFE ” মনে হচ্ছিলো প্রত্যেক সময়।  কলেজ trip ও গেছি বেশ কয়েকবার আর সেই বন্ধুদের সাথেই রুম শেয়ার করেছি , মন থেকে বলছি, নিজেকে একটুও ছোট মনে হয়নি বা মনে হয়নি যে কোনো অশালীন কাজ করছি। semester এর ছুটি কাটিয়ে যখন কলেজ হোস্টেল ফিরতাম , মেয়ে বন্ধুদের সাথে সাথে ছেলে বন্ধুগুলো জড়িয়ে ধরতো, আলিঙ্গন আর মা বাবার সামনেই করতো।  হ্যাঁ আমি গর্বিত যে আমার মা বাপি আমি ছেলে অরে মেয়ে বন্ধু differentiate করতে শেখায়নি কারণ বন্ধু যে বন্ধুই হয় !
   প্রায় ৭ মাস পর যখন আমার প্রেমিকের সাথে হঠাৎ দেখা হয়েছিল , পারিনি ওকে না জড়িয়ে ধরে থাকতে , public place এ আছি বলে নিজের emotion টা লুকিয়ে রাখতে পারিনি।  প্রত্যেকটা ঝগড়ার পর যখন সবটা মিটে যেতো জড়িয়ে ধরতাম তো ওকে কলেজের মধ্যেই।  প্রফেসসররাও জানতো সবটা, কখনো বলেনি যে আমরা অশালীন আচরন করছি , সত্যিই বলেনি।
  হতে পারে আমরা বর্তমান প্রজন্ম একটু উৎশৃঙ্খল, আমাদের emotional outcome টা নাহয় একটু আলাদা , তাই বলে যারা সম্মান DESERVE করেন, তাদের সম্মান করবোনা এরকম শিক্ষা কিন্তু আমরা পাইনা।
   আমার শহরে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে শুধু মাত্র প্রবীণদের সম্মান দেবে বলে আলিঙ্গনাবদ্ধ হতে পারবে না মেট্রোতে , এটা যে একদম মানা যায়না।  তাহলে বরঞ্চ সম্মানটা “তিলোত্তমা তোমার জন্যই তোলা থাকে ” ?
তিলোত্তমা আমি তোমায় সম্মান করি :) 2

Pratiksha (60)

An unfortunate explorer of life, a keeper still awaiting to be kept.
The mystery girl, with different view towards everything and everyone.
Writer by passion and obsession, dreamer of positivity.

Sharing the little you have with those in need can turn around a life without you realizing it..